iPhone 18 Pro Max নাকি iPhone 17 Pro Max: কোনটি কিনবেন? (২০২৬ সম্পূর্ণ গাইড)
নতুন iPhone আসলেই কি সাথে সাথে কেনা লাগে? না, লাগে না। iPhone 18 Pro Max এখনো বাজারে আসেনি। সেপ্টেম্বরে লঞ্চ হবে বলে শোনা যাচ্ছে। এখন যা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সবই leaks আর rumor থেকে। তাই কনফার্ম কিছু বলা যাচ্ছে না।
দাম নিয়েও একই কথা। প্রথম ১৫ দিন শুধু 512GB আর 1TB ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে, দাম হতে পারে ২৫০,০০০ থেকে ২৮০,০০০ টাকার আশেপাশে। 256GB আসবে ৭ দিন পর, দাম হবে ১৭০,০০০ থেকে ২০০,০০০ টাকার মধ্যে। ওই ১৫ দিনের মধ্যেই 512GB আর 1TB এর দাম কমে ১৭০,০০০-১৮০,০০০ টাকায় নেমে আসবে। আর 256GB এর দাম আরও কমবে। তবে মনে রাখবেন, এগুলো শুধু আন্দাজ। UK, USA নাকি China থেকে ফোন আসছে, আর কোন কালার নিচ্ছেন, তার উপর দাম নির্ভর করবে।
এই পোস্ট তাদের জন্য, যারা 17 Pro Max ব্যবহার করছেন আর ভাবছেন আপগ্রেড করবেন কিনা। পুরোনো ইউজারদের জন্যও কাজে লাগবে।
iPhone 18 Pro Max vs iPhone 17 Pro Max — এক নজরে
দুইটা ফোন পাশাপাশি দেখলে বোঝা সহজ হয়। নিচের টেবিলটা এক নজরে দেখে নিন।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
iPhone 18 Pro Max দেখতে পুরোপুরি নতুন হবে না। কিন্তু কিছু ছোট পরিবর্তন আসতে পারে। এখনো সবটাই গুজব। Apple অফিসিয়াল কিছু বলেনি।
ডাইনামিক আইল্যান্ড ছোট হচ্ছে
সামনের কালো কাটআউট, মানে Dynamic Island, এবার ছোট হতে পারে। Face ID এর একটা পার্টস স্ক্রিনের নিচে চলে যাবে। এতে কাটআউট প্রায় ২৫-৩৫% ছোট হবে। তবে পুরো গায়েব হবে না। সেলফি ক্যামেরা তো থাকবেই।
ক্যামেরা প্লেটো একটু বদলাবে
পেছনের ক্যামেরার জায়গাটা, মানে প্লেটো, এবার কোণা গোলাকার হতে পারে। আগে কোণাগুলো শার্প ছিল, তাই চিপিং হতো বেশি। গোলাকার হলে দেখতেও ভালো লাগবে, ক্ষতিও কম হবে। তবে এটাও কনফার্ম না।
নতুন রঙের সম্ভাবনা
এবার নতুন কালার লাইনআপ শোনা যাচ্ছে। একটা গাঢ় Dark Cherry, একটা উজ্জ্বল Light Blue, ক্লাসিক Silver, আর গাঢ় Space Black বা Dark Gray। চারটা রঙই দেখতে ভিন্ন মুড দেয়। কেউ চাইলে বোল্ড কালার নিতে পারবে, কেউ চাইলে ক্লাসিক।
ওজন আর পুরুত্ব প্রায় একই
পুরুত্ব হতে পারে ৮.৭৫ মিমি, মানে 17 Pro Max এর মতোই। কিছু রিপোর্ট বলছে ওজন সামান্য বাড়তে পারে, বড় ব্যাটারির জন্য। হাতে ধরলে পার্থক্য বোঝা যাবে না তেমন।
ডিসপ্লে তুলনা
স্ক্রিনের দিক থেকে খুব বেশি বদল আসবে না। iPhone 17 Pro Max এর মতোই iPhone 18 Pro Max এও থাকবে ৬.৯ ইঞ্চির OLED স্ক্রিন। রিফ্রেশ রেট একই, ১২০Hz পর্যন্ত। মানে স্ক্রলিং, গেমিং সবকিছু আগের মতোই মসৃণ লাগবে।
LTPO+ প্রযুক্তি আসছে
নতুন কিছু যোগ হচ্ছে ভেতরে, নাম LTPO+। এটা স্ক্রিনের কারেন্ট আরও ভালোভাবে কন্ট্রোল করে। ফলে ব্যাটারি কম খরচ হয়। রিফ্রেশ রেট বাড়বে না ঠিকই, কিন্তু স্ক্রিন চালাতে কম চার্জ লাগবে। Always-On Display ব্যবহার করলে এই সুবিধা বেশি বোঝা যাবে।
উজ্জ্বলতা প্রায় একই থাকছে
দুই ফোনেই আউটডোরে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা প্রায় ৩,০০০ নিট। মানে রোদে স্ক্রিন পড়তে সমস্যা হবে না, দুই ফোনেই। তবে সংখ্যা এক হলেও, নতুন LTPO+ প্রযুক্তির কারণে iPhone 18 Pro Max একই উজ্জ্বলতা কম চার্জ খরচ করে দিতে পারবে। মানে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে সুবিধাটা বোঝা যাবে।
পারফরম্যান্স ও চিপসেট
ভেতরের হার্ডওয়্যারেই সবচেয়ে বড় বদল আসছে। iPhone 18 Pro Max চলবে নতুন A20 Pro চিপে, যেটা 2nm প্রসেসে বানানো। iPhone 17 Pro Max এর A19 Pro চিপ 3nm প্রসেসের। ছোট প্রসেস মানে কম শক্তি খরচে বেশি কাজ। গেমিং আর মাল্টিটাস্কিং করার সময় এই পার্থক্য বোঝা যাবে সবচেয়ে বেশি।
নিজস্ব মডেম আসছে
এবার Apple নিজেদের বানানো C2 মডেম ব্যবহার করতে পারে। আগে Qualcomm এর মডেম ব্যবহার হতো। নিজের মডেম মানে ব্যাটারি আর ইফিসিয়েন্সিতে Apple নিজের মতো করে অপ্টিমাইজ করতে পারবে। ফোন চার্জ কম খরচ করবে, নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্সও উন্নত হতে পারে।
RAM আর স্টোরেজ
সাধারণভাবে 12GB RAM থাকতে পারে সব ভ্যারিয়েন্টে। স্টোরেজ অপশন 256GB থেকে শুরু করে 2TB পর্যন্ত যেতে পারে। বড় স্টোরেজ যারা অনেক ভিডিও, ছবি রাখেন তাদের জন্য কাজে লাগবে।
iOS 27 নিয়ে আসবে
ফোনটা বাজারে আসবে iOS 27 নিয়ে, একদম বক্স থেকেই। নতুন সফটওয়্যার মানে নতুন ফিচারও পাবেন প্রথম দিন থেকেই।
ক্যামেরা সিস্টেম
ক্যামেরাতেই সবচেয়ে বড় চমক আসতে পারে এবার। iPhone 18 Pro Max এ যোগ হচ্ছে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার। এটাই এবারের সবচেয়ে বড় আপগ্রেড বলা যায়। ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার মানে লেন্সের ছিদ্র নিজে নিজে ছোট-বড় হতে পারে, ঠিক ক্যামেরার মতো। কম আলোতে ছবি তুললে বেশি আলো ঢুকবে, ছবি পরিষ্কার আসবে। পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করাও আগের চেয়ে সহজ হবে। মানে প্রফেশনাল ক্যামেরার মতো কন্ট্রোল পাবেন হাতের মুঠোয়।
টেলিফটো লেন্স আরও শক্তিশালী
টেলিফটো লেন্সের অ্যাপারচার আগের চেয়ে ওয়াইড হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। মানে জুম করে ছবি তুললে আলো বেশি ঢুকবে, ছবি অন্ধকার আসবে না। দূরের জিনিস স্পষ্ট আসবে, রাতেও।
আল্ট্রা-ওয়াইড আর ফ্রন্ট ক্যামেরা প্রায় একই
আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স আর সেলফি ক্যামেরায় বড় কোনো বদল নেই। দুই ফোনেই একই সেন্সর থাকছে। তাই গ্রুপ ছবি বা ওয়াইড শট তোলার অভিজ্ঞতা প্রায় একই থাকবে।
বাস্তবে কেমন লাগবে
স্পেক শীট দেখে বোঝা কঠিন, আসলে দৈনন্দিন জীবনে কী পরিবর্তন আসবে। সহজ করে বললে, রাতে বা কম আলোতে ছবি তোলার সময়ই সবচেয়ে বেশি পার্থক্য বুঝবেন। রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি, সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে ছবি, এসব জায়গায় নতুন অ্যাপারচার কাজে দেবে। দিনের আলোয় ছবি তুললে অবশ্য খুব বেশি তফাত চোখে পড়বে না, দুই ফোনই ভালো ছবি দেয়। আসল সুবিধা পাবেন রাতের ছবি আর পোর্ট্রেটে।
ব্যাটারি লাইফ ও চার্জিং
ব্যাটারিতেই এবার সবচেয়ে বড় লাফ দেখা যাচ্ছে। iPhone 18 Pro Max এ থাকতে পারে প্রায় ৫২০০ mAh এর ব্যাটারি। আগের iPhone 17 Pro Max এ আছে ৫০৮৮ mAh। সংখ্যায় খুব বড় না লাগলেও, এটাই হতে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ব্যাটারির iPhone।
চার্জিং স্পিডে বদল নেই
চার্জিং নিয়ে বেশি কিছু বদলাচ্ছে না। তার দিয়ে চার্জ দিলে ৪০W স্পিড পাবেন। ওয়্যারলেস চার্জে পাবেন ২৫W। দুই ফোনেই এই স্পিড প্রায় একই থাকছে। তাই চার্জ দিতে যে সময় লাগে, সেটা খুব একটা কমবে না।
বাস্তবে কতক্ষণ চলবে
বড় ব্যাটারি মানে সহজ হিসাবে স্ক্রিন-অন টাইম কিছুটা বাড়বে। সারাদিন ভিডিও দেখা, গেম খেলা, চ্যাট করা—এসব করলেও ফোন আগের চেয়ে একটু বেশি সময় চলবে বলে আশা করা যায়। তবে আসল ফলাফল নির্ভর করবে নতুন চিপ আর LTPO+ স্ক্রিন কতটা পাওয়ার বাঁচাতে পারে তার উপর। শুধু ব্যাটারির সাইজ বড় হলেই ব্যবহারের সময় বাড়ে না, পুরো সিস্টেম মিলিয়ে কাজ করে।
দাম ও লঞ্চ ডেট
কবে আসছে
iPhone 18 Pro Max লঞ্চ হতে পারে ২০২৬ এর সেপ্টেম্বরে। এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি শোনা তারিখ। iPhone 18 Pro Max Price কেমন হবে, দাম আর লঞ্চ কবে—চলুন দেখে নিই।
দাম বাড়বে কিনা
বেস মডেলের দাম খুব একটা বাড়বে না বলে শোনা যাচ্ছে। তবে উঁচু স্টোরেজ নিলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে। মানে বেশি জায়গা চাইলে পকেট থেকে বেশি খরচ করতে হবে।
বাংলাদেশে দাম ও পাওয়ার সময়
প্রথম ১৫ দিন শুধু 512GB আর 1TB ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে। দাম হতে পারে ২৫০,০০০ থেকে ২৮০,০০০ টাকা। 256GB আসবে ৭ দিন পরে, দাম ১৭০,০০০ থেকে ২০০,০০০ টাকার মধ্যে। ওই ১৫ দিনের মধ্যেই 512GB, 1TB এর দাম নেমে আসবে ১৭০,০০০-১৮০,০০০ টাকায়। 256GB আরও কমতে পারে। মনে রাখবেন, এগুলো শুধু আন্দাজ। ফোন UK, USA নাকি China থেকে আনা হচ্ছে, সেটার উপরেও দাম নির্ভর করবে।
EMI দিয়েও কিনতে পারবেন
দাম শুনে ভয় পাচ্ছেন? SMS Gadget দিচ্ছে EMI সুবিধা। SSLCOMMERZ দিয়ে পেমেন্ট করে ৩, ৬, ৯, ১২, ১৮, ২৪, ৩০ বা ৩৬ মাসের প্ল্যান বেছে নিতে পারবেন। কোনো লুকানো খরচ নেই।
প্রি-অর্ডার করতে পারবেন
১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রি-অর্ডার শুরু হবে SMS Gadget এ। মজার বিষয়, দাম ফিক্সড হবে যেদিন ফোন হাতে পাবেন, প্রি-অর্ডার করার দিন না। বুকিং দিতে ১০% অগ্রিম দিতে হবে, বাকিটা ফোন নেওয়ার সময়।
কে জিতবে কোথায়?
সব ফিচার এক জায়গায় দেখলে বোঝা সহজ হয়। নিচের টেবিলে দেখুন কে এগিয়ে।
চিপ, ক্যামেরা আর ব্যাটারিতে নতুন ফোন এগিয়ে। দাম কম চাইলে পুরোনোটাই ভালো অপশন।
আপনার কি আপগ্রেড করা উচিত?
আপগ্রেড করা মানেই সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত না। কার জন্য কেমন লাগবে, সেটা ফোন আর বাজেটের উপর নির্ভর করে। চলুন দেখি আপনার ক্ষেত্রে কোনটা ঠিক হবে।
17 Pro Max ইউজারদের জন্য
আপনি যদি এখন iPhone 17 Pro Max ব্যবহার করেন, তাহলে তাড়াহুড়ো করে আপগ্রেড করার দরকার নেই। চিপ আর ব্যাটারিতে পার্থক্য আছে ঠিকই, কিন্তু দৈনন্দিন ব্যবহারে খুব বেশি বোঝা যাবে না। টাকাটা বাঁচিয়ে রাখাই ভালো।
16 Pro Max বা তার আগের ইউজারদের জন্য
আপনার ফোন যদি iPhone 16 Pro Max বা তার চেয়ে পুরোনো হয়, তাহলে আপগ্রেড করাটা যুক্তিসঙ্গত। কয়েক বছরের পুরোনো চিপ থেকে A20 Pro তে গেলে গতি আর ব্যাটারিতে বড় পার্থক্য টের পাবেন। ক্যামেরার নতুন ফিচারও কাজে লাগবে।
বাজেট কম থাকলে
হাতে টাকা কম থাকলে চিন্তার কিছু নেই। iPhone 17 Pro Max Price কমে যাবে, তাই এটা কেনাই ভালো অপশন। নতুন ফোন আসার পর এর দাম কমে যাবে। একই ধরনের পারফরম্যান্স পাবেন, খরচ কম হবে। তাড়াহুড়ো করে সবচেয়ে নতুনটা নেওয়ার দরকার নেই, বাজেট বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।
উপসংহার
সব মিলিয়ে দেখলে, iPhone 18 Pro Max এগিয়ে থাকছে চিপ, ক্যামেরা আর ব্যাটারিতে। দাম কিছুটা বেশি পড়বে। iPhone 17 Pro Max এখনো ভালো ফোন, বাজেট কম থাকলে এটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আমার মতে, আপনার ফোন যদি ২-৩ বছরের পুরোনো হয়, আপগ্রেড করে ফেলুন। কিন্তু 17 Pro Max থাকলে আরেকটু অপেক্ষা করাই ভালো।
আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান, কোন ফোনটা নেবেন ভাবছেন।
Frequently Asked Questions
সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে ২০২৬ এর সেপ্টেম্বর। তবে Apple এখনো অফিশিয়াল কিছু জানায়নি। তবে Apple তাদের flagship model গুলো সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি অর্থাৎ দ্বিতীয় সপ্তাহে রিলিজ করে থাকে।
বাংলাদেশে প্রথম ১৫ দিন শুধু 512GB আর 1TB পাওয়া যাবে, দাম হতে পারে ২৫০,০০০ থেকে ২৮০,০০০ টাকা। 256GB আসবে ৭ দিন পর, দাম ১৭০,০০০ থেকে ২০০,০০০ টাকার মধ্যে। ১৫ দিন পর দাম কিছুটা কমে আসবে। এগুলো সবই আন্দাজ করা সংখ্যা, ফোন কোন দেশ থেকে আসছে তার উপরেও দাম নির্ভর করে।
হ্যাঁ, অবশ্যই। চিপ, ক্যামেরা, ডিসপ্লে সবই এখনো ভালো পারফরম্যান্স দেয়। নতুন ফোন আসার পর এর দাম কমে যাবে, তাই বাজেট কম থাকলে এই ফোনই স্মার্ট চয়েস।
সবচেয়ে বড় পার্থক্য ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার। iPhone 18 Pro Max এ এই ফিচার থাকতে পারে, যেটা iPhone 17 Pro Max এ নেই। এর ফলে কম আলোতে ছবি তোলা আর পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করা আরও ভালো হবে। টেলিফটো লেন্সেও কিছুটা উন্নতি আসতে পারে। আল্ট্রা-ওয়াইড আর ফ্রন্ট ক্যামেরায় বড় কোনো বদল নেই।
