shopping_basket
Cart
0

YOUR CART

close

Redmi Note 15 Pro Review: Price in Bangladesh, Full Specs, Camera & Performance Test

Review By SMS Gadget Team April 26, 2026
Redmi Note 15 Pro Review: Price in Bangladesh, Full Specs, Camera & Performance Test

স্মার্টফোন বাজারে শাওমির 'নোট' সিরিজ সবসময়ই গ্রাহকদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বাজারে এসেছে Redmi Note 15 Pro। ফোনটি লঞ্চ হওয়ার পর থেকেই এর কিছু ফিচার নিয়ে যেমন প্রশংসা হচ্ছে, তেমনি কিছু জায়গায় সমালোচনাও কম নয়। বিশেষ করে ৭০০০ mAh-এর ব্যাটারি আর স্লিম ডিজাইনের এক অদ্ভুত সমন্বয় এই ফোনটিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে শুধু বড় ব্যাটারি বা সুন্দর ডিসপ্লে কি একটি ফোনকে সেরা প্রমাণ করতে পারে? নাকি পারফরম্যান্স আর ক্যামেরার মতো জায়গাগুলোতে বড় কোনো কমপ্রোমাইজ রয়ে গেছে? আজকের বিস্তারিত আলোচনায় আমরা এই ফোনের ডিজাইন থেকে শুরু করে পারফরম্যান্স এবং ক্যামেরা প্রতিটি দিক নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করবো, যাতে আপনি নিজেই বুঝতে পারেন এই বাজেটে ফোনটি আপনার জন্য কতটা জাস্টিফাইড হবে। s

Redmi Note 15 Pro – Full Specifications:


  - Panel: 6.83-inch AMOLED Display (68 Billion Colors, 443 PPI).

  - Refresh Rate: 120Hz Refresh Rate (HDR10+ and Dolby Vision support).

  - Brightness: 3200 nits Peak Brightness (Excellent Direct Sunlight

    Visibility).

  - Build: Premium Plastic Build with 7.8mm Slimness.

  - Weight: 211 grams.

  - Durability: IP68 & IP69 Water and Dust Resistance (Fully Waterproof).

  - Protection: Xiaomi Dragon Crystal Glass.

  - Chipset: MediaTek Dimensity 7400 Ultra.

  - RAM: 12GB LPDDR4X.

  - ROM: 256GB UFS 2.2 (No Expandable Storage).

  - Gaming: 60 FPS Stable (PUBG, Free Fire, eFootball) with WildBoost

    Performance Mode.

  - Main Camera: 50 MP Main (f/1.5 Aperture) with OIS.

  - Ultra-wide: 8 MP Ultra-wide Angle Lens.

  - Front Camera: 20 MP Selfie Shooter (with smoothing effect).

  - Video Recording: Rear: 4K@30fps | Front: 1080p@60fps.

  - Capacity: 7,000 mAh Massive Battery.

  - Wired Charging: 45W Fast Charging | 22.5W Reverse Charging (Powerbank Mode).

  - Full Charge Time: 0-100% in approximately 90 Minutes.

  - OS: HyperOS 2 based on Android 15 (4 Major Updates & 6 Years Security

    Updates).

  - Fingerprint: Optical In-display Fingerprint Scanner (Fast & Accurate).

  - Extras: IR Blaster, Dual Stereo Speakers, NFC, Wi-Fi 6, Bluetooth 5.4.


blog-image
blog-image



ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি


আসুন কথা বলি এই ফোনের ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি নিয়ে। প্রথমত, ফোনটি হাতে নিলেই আপনি একটি প্রিমিয়াম ভাইব পাবেন। যদিও ফোনটি প্লাস্টিক বিল্ডের, কিন্তু এর ব্যাক

প্যানেলের ফিনিশিংটা এমনভাবে করা হয়েছে যে হঠাৎ দেখলে বা হাতে ধরলে একে গ্লাস

ব্যাক বলেই মনে হবে।


এছাড়া এর ডাইমেনশনও ঠিকঠাক। কারণ ফোনটির থিকনেস মাত্র ৭.৮ মিলিমিটার। যার কারণে এক হাতে ব্যবহার করতে বেশ সুবিধা হয় এবং সাইজে খুব বেশি বড় বা ছোট মনে হয়

না। তবে এর ভেতরেই শাওমি ৭০০০ mAh এর বড় একটা ব্যাটারি দিয়েছে, যার কারণে

ফোনটার ওজন দাঁড়িয়েছে ২১১ গ্রাম। যারা একটু হালকা ফোন ব্যবহার করতে পছন্দ করেন,

তাদের কাছে এটি কিছুটা ভারী মনে হতে পারে। তবে এর ওয়েট ডিস্ট্রিবিউশন ভালো

হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ হাতে ধরে রাখলে খুব একটা অস্বস্তি হয় না। তাছাড়া ফোনটি বাজারে ৪টি কালার

ভেরিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রতিটি কালারই বেশ গ্লসি এবং আই-ক্যাচি।


এবার যদি এর বাটন এবং পোর্টস নিয়ে কথা বলি তাহলে ফোনটির নিচের দিকে থাকছে টাইপ-সি

চার্জিং পোর্ট, মেইন স্পিকার গ্রিল এবং সিম কার্ড ট্রে। এই সিম-ট্রেতে আপনারা দুটো ন্যানো সিম ব্যবহার করতে পারবেন, তবে এখানে কোনো ডেডিকেটেড মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট নেই। অর্থাৎ স্টোরেজ বাড়ানোর কোনো সুযোগ থাকছে না। তবে যেহেতু বেস ভেরিয়েন্টই ২৫৬ জিবি, তাই সাধারণ ইউজারদের জন্য এটি খুব একটা বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়।


ফোনের উপরের দিকে তাকালে দেখা যাবে সেকেন্ডারি নয়েজ ক্যান্সেলেশন মাইক এবং শাওমির

সিগনেচার আইআর ব্লাস্টার, যা দিয়ে আপনারা বাসার এসি বা টিভি কন্ট্রোল করতে

পারবেন। সেই সাথে এখানে সেকেন্ডারি স্পিকারটিও থাকছে, যা ফোনটিকে একটি

প্রপার ডুয়াল স্টেরিও স্পিকারের আউটপুট দিতে সাহায্য করে। তবে দুঃখের বিষয়

হলো, ফোনটিতে কোনো হেডফোন জ্যাক নেই। তাই গান শোনার জন্য আপনাকে

টাইপ-সি কনভার্টার অথবা ব্লুটুথ হেডফোনই ব্যবহার করতে হবে।


সবশেষে এর ডিউরাবিলিটি নিয়ে বলতে গেলে, এতে থাকছে IP68 এবং IP69 রেটিং। এর মানে হলো ফোনটি পুরোপুরি ডাস্ট এবং ওয়াটারপ্রুফ। দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে গেলে বা বৃষ্টির

ঝাপটায় ফোনটির কোনো ক্ষতি হবে না, যা এই বাজেটে অবশ্যই একটি বড় প্লাস

পয়েন্ট। আর হ্যাঁ, ফোনের ডান দিকে রয়েছে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম রকারগুলো।


সব মিলিয়ে ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে শাওমি বেশ ব্যালেন্সড একটা কাজ

করেছে। 




ডিসপ্লে


এবার আসি এই ফোনের সবথেকে বড় হাইলাইটে, আর সেটা হলো এর ডিসপ্লে।

ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৮৩ ইঞ্চির একটি বিশাল অ্যামোলেড (AMOLED)

ডিসপ্লে। শুরুতেই যদি এর স্মুথনেস নিয়ে বলি, এতে থাকছে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট। তবে 

সব অ্যাপেই 120hz টা সাপোর্ট করবে নাহ তাছাড়া সিস্টেম ইউআই এবং স্ক্রলিংয়ের সময় এফপিএস মিটারে প্রপার ১২০ হার্টজই শো করে। তাই অ্যাপ ওপেনিং, ক্লোজিং বা ফেসবুক-ব্রাউজিংয়ে আপনারা বেশ স্মুথ একটা এক্সপেরিয়েন্স পাবেন।


এবার কথা বলা যাক এর ডিসপ্লে কোয়ালিটি নিয়ে। এখানে থাকছে ফুল এইচডি প্লাস রেজুলেশন

এবং ৪৪৩ পিপিআই ডেনসিটি, যার কারণে শার্পনেস নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকবে না আপনাদের। এছাড়াও এতে ৬৮বিলিয়ন কালার সাপোর্ট করে এবং ১০০% ডিসিআই-পি৩ (DCI-P3) কালার গামোট রয়েছে যার কারণে কালারগুলো জাস্ট অসাধারণ এবং রিয়েলিস্টিক মনে হবে। সেইসাথে ইউটিউবে আপনারা অনায়াসেই 4K 60FPS HDR ভিডিও এনজয় করতে পারবেন। তাছাড়া এইচডিআর ১০ প্লাস (HDR10+) এবং ডলবি ভিশনের সাপোর্ট তো থাকছেই, যা ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দেয়।


ব্রাইটনেসের জন্য এখানে দেওয়া হয়েছে ৩২‌০০ নিটস পর্যন্ত পিক ব্রাইটনেস। এর ফলে ডিরেক্ট সানলাইটেও ডিসপ্লে দেখতে বিন্দুমাত্র কোনো সমস্যা হবে না। চোখের যত্নের কথা মাথায় রেখে শাওমি এখানে দিয়েছে ৩৮৪০ হার্টজ (3840Hz) পিডব্লিউএম(PWM) ডিমিং। যারা রাতে বা লো-লাইটে দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করেন, তাদের চোখে স্ট্রেস বা চাপ অনেক কম পড়বে, যা একটি খুবই পজিটিভ দিক।


সিকিউরিটির জন্য ফোনটিতে থাকছে অপ্টিক্যাল ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।

সাধারণত এই বাজেটে আমরা এই সেন্সর দেখেই অভ্যস্ত, তবে শাওমি চাইলে এখানে 

আল্ট্রাসনিক সেন্সর দিতে পারতো। যাইহোক এটিও যথেষ্ট ফাস্ট এবং একুরেট।


সবশেষে ডিসপ্লে প্রটেকশনের কথা বললে, এখানে ব্যবহার করা হয়েছে Xiaomi ড্রাগন

ক্রিস্টাল গ্লাস। যদিও আগের জেনারেশনে কর্নিং গরিলা গ্লাস ভিক্টাস ২ ছিল, যেটা অনেকের ব্যক্তিগত পছন্দ। তবে এই ড্রাগন ক্রিস্টাল গ্লাসটি ডিসপ্লেকে কতটা স্ক্র্যাচ বা ড্রপ থেকে সেফটি দেবে তা সময়ই বলে দেবে।


ওভারঅল, ডিসপ্লে সেকশনে রেডমি কোনো কমপ্রোমাইজ করেনি। শার্পনেস, কালার এবং

ব্রাইটনেস সব মিলিয়ে এই বাজেটে এটি অন্যতম সেরা একটি প্যানেল।




পারফরম্যান্স এবং সফটওয়্যার



এবার আসি এই ফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্ট অর্থাৎ পারফরম্যান্স এবং সফটওয়্যার নিয়ে।

এই ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭৪০০ আল্ট্রা চিপসেট। সত্যি

বলতে, এই বাজেট সেগমেন্টে যখন অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলো স্ন্যাপড্রাগন ৮এস জেন ৩ (8s Gen 3) বা ডাইমেনসিটি ৮৩৫০ এর মতো পাওয়ারফুল চিপসেট প্রোভাইড করছে, সেখানে শাওমির এই ৭৪০০ আল্ট্রা দেওয়াটা কিছুটা অবাক করেছে। এই বাজেটে অন্তত স্ন্যাপড্রাগন ৭ প্লাস জেন ৩ বা এই লেভেলের চিপসেট আমরা আশা করতেই পারতাম। যেটা শাওমি দেয়নি।


তবে প্রসেসরটি অন-পেপার খুব বেশি শক্তিশালী মনে না হলেও, অপ্টিমাইজেশনের কারণে

দৈনন্দিন ব্যবহারে এটি বেশ স্মুথ। তাছাড়া দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের ফলেও পারফরম্যান্স হুট করে ড্রপ করবে না আশা করা যায় এবং Xiaomi IceLoop cooling system থাকার কারণে বড় কোনো হিটিং ইস্যুও খেয়াল করবেন না। 


যাইহোক এবার আসি সবথেকে বড় অভিযোগের জায়গায় এর র‍্যাম এবং স্টোরেজ টাইপে। এই বাজেটে শাওমি ব্যবহার করেছে UFS 2.2 স্টোরেজ এবং LPDDR4X র‍্যাম। বর্তমান সময়ে যেখানে ইউএফএস ৩.১ বা ৪.০ কমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ২.২ স্টোরেজ টাইপ কিছুটা হতাশাজনক। তবে র‍্যাম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে খুশি হবেন বলা যায় ১২ জিবি র‍্যাম থাকার কারণে

ব্যাকগ্রাউন্ডে ১০-১২টি অ্যাপ ইজিলি হ্যান্ডেল করতে পারে এবং অ্যাপ ওপেনিং বা ক্লোজিংয়ে তেমন কোনো ল্যাগও লক্ষ্য করবেন না।


গেমিংয়ের কথা বললে, ফোনটি ডিসেন্ট পারফরম্যান্স দেয়। পাবজিতে (PUBG) স্মুথ

গ্রাফিক্সে অনায়াসেই ৬০ এফপিএস পাবেন। গেম খেলার সময় এভারেজে ৫৯ এফপিএস ধরে রাখতে পারে, খুব বেশি ফ্রেম ড্রপ বা ল্যাগ পাবেন না। ই-ফুটবল বা ফ্রি-ফায়ারের মতো গেমগুলোও বেশ স্মুথলি খেলতে পারবেন। এছাড়াও এতে রয়েছে (Wild Boost) পারফরম্যান্স মোড যার ফলে গেমিংয়ের সময় টাচ রেসপন্স এবং স্ট্যাবিলিটি বেশ ভালোভাবে থাকে।


সফটওয়্যার সেকশনে ফোনটি লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৫ ভিত্তিক HyperOS 2-তে রান করছে।

শাওমির এই নতুন ইন্টারফেসটা বেশ ক্লিন এবং মডার্ন। এখানে বড় একটা পজিটিভ দিক হলো শাওমি এই ফোনে ৪ বছরের মেজর অ্যান্ড্রয়েড আপডেট এবং ৬ বছরের সিকিউরিটি আপডেটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য নিশ্চিন্ত করবে।


তবে যেহেতু এটি একটি চাইনিজ ভেরিয়েন্ট, তাই শুরুতে বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় ব্লটওয়্যার

বা প্রি-ইনস্টল অ্যাপ থাকবে। তবে ভালো ব্যাপার হলো, এগুলো আপনারা চাইলে আনইনস্টল

করে ফেলতে পারবেন। আর চাইনিজ ফোনের একটি কমন সমস্যা হলো নোটিফিকেশন ডিলে, এই ফোনেও মাঝে মাঝে সেটি লক্ষ্য করা যেতে পারে। তবে ইন্টারফেসের এনিমেশন এবং

কাস্টমাইজেশন অপশনগুলো আপনাকে একটি ফ্রেশ ফিল দিবে।


সংক্ষেপে বলতে গেলে, আপনি যদি খুব হেভি গেমিংয়ের জন্য ফোন খুঁজেন, তবে হয়তো এটি

আপনাকে ১০০% সন্তুষ্ট করতে পারবে না। কিন্তু ক্যাজুয়াল গেমিং, স্মুথ মাল্টিটাস্কিং এবং লং-টার্ম সফটওয়্যার সাপোর্টের জন্য এটি একটি স্ট্যাবল পারফর্মার।




ক্যামেরা


এবার চলুন কথা বলি ফোনটির ক্যামেরা পারফরম্যান্স নিয়ে। শুরুতেই দেখে নেই ক্যামেরা সেকশনে কী কী দিয়েছে শাওমি। ফোনটির পেছনে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ। এর মেইন সেন্সরটি হলো ৫০ মেগাপিক্সেলের Sony LYT-600, যার অ্যাপারচার f/1.5। সেইসাথে আছে একটি ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড সেন্সর। আর সেলফি প্রেমীদের জন্য সামনে দেওয়া হয়েছে একটি ২০ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট শুটার।

দিনের আলোতে মেইন ক্যামেরা দিয়ে বেশ শার্প এবং ডিটেইলড ছবি তোলা যায়। f/1.5 অ্যাপারচার হওয়ার কারণে ন্যাচারাল ডেপথ-অফ-ফিল্ড বা ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বেশ ভালো পাওয়া যায়। তবে একটা বিষয় নোটিশ করার মতো, রেডমির চিরচেনা স্বভাব অনুযায়ী ছবিগুলো মাঝে মাঝে একটু ওভার-সেচুরেটেড মনে হতে পারে। অর্থাৎ কালারগুলো অরিজিনালের চেয়ে একটু বেশি উজ্জ্বল দেখায়, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডের জন্য ভালো হলেও ন্যাচারাল কালার যারা পছন্দ করেন তাদের কাছে কিছুটা আর্টিফিশিয়াল মনে হতে পারে।

এখানে ডেডিকেটেড কোনো টেলিফটো লেন্স নেই, তবে ১এক্স এবং ২এক্স জুমে ছবি তোলা যায়। পোর্ট্রেট মোডের কথা বললে, এর ব্লার এবং বোকে ইফেক্ট যথেষ্ট ভালো। তবে ডিটেইলসে তাকালে দেখা যায়, চুল এবং শরীরের সাইডের কিছু অংশে এজ ডিটেকশনে ঘাটতি রয়েছে। এটি মূলত একটি সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের ইস্যু, যা আশা করি পরবর্তী আপডেটে ঠিক হয়ে যাবে।

৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্সটি দিয়ে দিনের আলোতে মোটামুটি কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো ছবি পাওয়া যায়। তবে মেইন ক্যামেরার তুলনায় এর শার্পনেস এবং এক্সপোজার ব্যালেন্স কিছুটা কম মনে হবে। ডিটেইলস আরও একটু বেটার হতে পারতো।

রাতের বেলা বা লো-লাইটে নাইট মোড ব্যবহার করলে বেশ ডিসেন্ট ছবি পাওয়া যায়। নয়েজ এবং গ্রেইন অনেকটাই কন্ট্রোলে থাকে এবং লাইট সোর্সগুলো মোটামুটি ভালোভাবেই হ্যান্ডেল করতে পারে।

২০ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরাটি দিয়ে তোলা ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়া রেডি। তবে এখানে হালকা স্মুদিং ইফেক্ট কাজ করে, যার কারণে ফেসের ন্যাচারাল ডিটেইলস কিছুটা হারিয়ে যায়। এছাড়া এক্সপোজার ব্যালেন্সটা আরেকটু বেটার হলে ছবিগুলো আরও বেশি ন্যাচারাল লাগতো।

ভিডিওর ক্ষেত্রে পেছনের মেইন ক্যামেরা দিয়ে 4K 30FPS-এ ভিডিও রেকর্ড করা যায়, যা এই বাজেটে একটি ভালো দিক। এতে OIS (Optical Image Stabilization) থাকায় ভিডিও ফুটেজগুলো বেশ স্টেবল এবং স্মুথ থাকে। অন্যদিকে ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে আপনারা 1080p 60FPS পর্যন্ত ভিডিও করতে পারবেন, যা কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য মোটামোটি হেল্পফুল হবে।

সোজা কথায়, এই ফোনের ক্যামেরায় এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু না। এখানে ক্যামেরা অপ্টিমাইজেশনের জায়গায় শাওমির আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার ছিল। তবে রেগুলার ইউজার যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি বা ভিডিও পোস্ট করেন, তাদের জন্য এটি একটি ডিসেন্ট ক্যামেরা প্যাকেজ হতে পারে। 





ব্যাটারি এবং চার্জিং




Redmi Note 15 Pro-তে ব্যবহার করা হয়েছে ৭০০০ mAh-এর একটি বিশাল সিলিকন-কার্বন

হাই-ডেনসিটি ব্যাটারি। যেটার ব্যাকআপ নিয়ে প্রশ্ন করলে বলাই যায় আপনি যদি

অনেক বেশি হেভি ইউজার হন, অর্থাৎ টানা গেমিং বা ভিডিও স্ট্রিমিং করেন, তারপরও

এটি আপনাকে অনায়াসেই ৭ ঘণ্টা ১০ মিনিটের বেশি স্ক্রিন অন টাইম (SOT) দিবে। আর

যদি একজন নরমাল ইউজার হন, তাহলে সাধারণ ব্যবহারে এটি আপনাকে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। 

এবার কথা বলা যাক চার্জিং নিয়ে। ফোনের বক্সেই আপনারা পেয়ে যাবেন একটি ৪৫ ওয়াটের

ফাস্ট চার্জার। এই চার্জার দিয়ে ফোনটি ফুল চার্জ হতে সময় লাগে

প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মতো। ব্যাটারি সাইজ বিবেচনা করলে চার্জিং স্পিডটি

বেশ ডিসেন্ট। যদিও এখানে ৬৭ ওয়াটের চার্জার থাকলে এক্সট্রা এডভান্টেজ পাওয়া যেতো।


চার্জিংয়ের আরও কিছু ইন্টারেস্টিং ফিচার হলো এতে ২২.৫ ওয়াটের রিভার্স চার্জিং

সাপোর্ট আছে। এর মানে হলো, প্রয়োজনে আপনি আপনার এই ফোনটিকে একটি পাওয়ার

ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কোনো ফোন বা গ্যাজেট চার্জ দিতে পারবেন। 

সবশেষে বলতে গেলে, ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে এই ফোনে আপনার কোনো অভিযোগ থাকবে না। 




ভালো দিক 


  • দানবীয় ব্যাটারি ব্যাকআপ: ৭০০০ mAh-এর বিশাল সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি, যা হেভি ইউজেও নিশ্চিন্তে দেড় থেকে দুই দিন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।

  • চমৎকার অ্যামোলেড ডিসপ্লে: ৩২‌০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস এবং ৩৮৪০ হার্টজ PWM ডিমিং সাপোর্টসহ একটি ব্রাইট এবং কালার একুরেট প্যানেল।

  • IP68 ও IP69 রেটিং: এই বাজেটে যা বেশ বিরল; ফোনটি ধুলাবালি এবং গভীর পানিতেও পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে।

  • স্লিম ও প্রিমিয়াম ডিজাইন: ৭০০০ mAh ব্যাটারি থাকা সত্ত্বেও ফোনটি মাত্র ৭.৮ মিলিমিটার স্লিম, যা হাতে ধরলে বেশ প্রিমিয়াম ফিল দেয়।

  • দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার সাপোর্ট: ৪ বছরের মেজর অ্যান্ড্রয়েড আপডেট এবং ৬ বছরের সিকিউরিটি আপডেটের বিশাল প্রতিশ্রুতি।

  • ২২.৫ ওয়াট রিভার্স চার্জিং: প্রয়োজনে ফোনটিকে পাওয়ার ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে অন্য গ্যাজেট চার্জ দেওয়ার সুবিধা।

  • প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ফিচার: দ্রুতগতির ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার এবং শাওমির সিগনেচার আইআর ব্লাস্টার।


মন্দ দিক


  • ব্যাকডেটেড স্টোরেজ ও র‍্যাম: এই বাজেটে UFS 2.2 এবং LPDDR4X র‍্যাম ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে অন্তত UFS 3.1 আশা করা যেত।

  • প্রসেসর নিয়ে কমপ্রোমাইজ: অন্যান্য ব্র্যান্ড এই প্রাইস রেঞ্জে ফ্ল্যাগশিপ কিলার চিপসেট দিলেও এখানে ডাইমেনসিটি ৭৪০০ আল্ট্রা ব্যবহার করা হয়েছে।

  • চার্জিং সময় কিছুটা বেশি: বিশাল ব্যাটারি ফুল চার্জ হতে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগে; ৪৫ ওয়াটের বদলে আরও দ্রুত চার্জার দেওয়া যেতো।

  • ক্যামেরা অপ্টিমাইজেশন ইস্যু: ছবির কালার মাঝে মাঝে ওভার-সেচুরেটেড হয়ে যায় এবং পোর্ট্রেট মোডে এজ-ডিটেকশনে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।

  • ওজন কিছুটা বেশি: ব্যাটারি বড় হওয়ার কারণে ফোনটির ওজন ২১১ গ্রাম, যা হালকা ফোন প্রেমীদের কাছে কিছুটা ভারী মনে হতে পারে।

  • চাইনিজ রমের ব্লোটওয়্যার: ফোনের সাথে আসা অপ্রয়োজনীয় প্রি-ইনস্টল অ্যাপ এবং মাঝেমধ্যে নোটিফিকেশন ডিলে হওয়ার ঝামেলা।

  • হেডফোন জ্যাক ও এসডি কার্ডের অভাব: কোনো ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক এবং স্টোরেজ বাড়ানোর জন্য আলাদা কোনো স্লট নেই।




ফাইনাল কথা


সব মিলিয়ে Redmi Note 15 Pro ফোনটি বাজেট বিবেচনায় পারফরম্যান্সের দিক থেকে কিছুটা

পিছিয়ে থাকলেও এর বিল্ড কোয়ালিটি, অসাধারণ ডিসপ্লে এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ ফোনটিকে

একটি ইউনিক পজিশনে রেখেছে। আপনি যদি একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হন যার লম্বা সময়

চার্জ থাকা এবং ভালো ডিসপ্লে প্রয়োজন, তবে এটি আপনার জন্য ভালো ডিল হতে পারে।



দাম এবং কোথায় পাবেন?


এখন প্রশ্ন হলো, এই ফোনটা অরিজিনাল কোথায় পাবেন? তবে সরাসরি চলে যান SMS Gadgets-এ। আপনারা যারা ঢাকার ভেতরে আছেন তারা সরাসরি শপে গিয়ে ইন-হ্যান্ড ফিল নিয়ে ফোনটা দেখে কিনতে পারেন। আর যারা ঢাকার বাইরে, তাদের জন্য তো অনলাইন ডেলিভারি অপশন আছেই। তাদের ওয়েবসাইট থেকে অর্ডার করলেই জেনুইন প্রোডাক্ট পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়। স্টক কিন্তু খুব বেশিদিন থাকে না, তাই দেরি না করে এখনই SMS Gadgets-এর ফেসবুক পেজে একটা মেসেজ দিয়ে কারেন্ট প্রাইজ আর অফারগুলো জেনে নিন। 


Frequently Asked Questions

test

test

Sir, How can I help?support
support