shopping_basket
Cart
0

YOUR CART

close

HONOR 600 Lite Full Review – ডিজাইন সুন্দর, পারফরম্যান্স কেমন?

Review By Md Sharif May 11, 2026
HONOR 600 Lite Full Review – ডিজাইন সুন্দর, পারফরম্যান্স কেমন?

স্মার্টফোনের এই বিশাল বাজারে যখন একের পর এক নতুন ফোন আসে, তখন বেশিরভাগই মনে হয় যেন একই ছাঁচে ঢালা। কিন্তু অনেকদিন পর এমন একটা ডিভাইস মার্কেটে আসলো, যেটা আলাদা রকম প্রশান্তি দিবে আশা করা যায়। বিশেষ করে এই চাইনিজ রমের ভিড়ে যখন গ্লোবাল ভার্সনের কোনো ফোন সামনে আসে, তখন এমনিতেই ভালো লাগার মাত্রাটা বেড়ে যায়। আজ এমন একটি হ্যান্ডসেট নিয়ে কথা বলবো যেটার মূল আকর্ষণই হলো এর চমৎকার ফর্ম ফ্যাক্টর। যারা পকেটে বা হাতে বিশাল বড় কোনো 'ইট' বহন করতে পছন্দ করেন না, বরং কিছুটা স্লিম, কিউট এবং হ্যান্ডি কোনো ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ফোনটি হতে পারে দারুণ এক সমাধান। অনর তাদের নতুন Honor 600 Series স্লিমনেস আর ব্যাটারির যে সমন্বয় ঘটিয়েছে, তা সত্যিই অবাক করার মতো। চলুন, গভীরে গিয়ে দেখা যাক Honor 600 Lite আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারে ঠিক কতটা কার্যকর।



Honor 600 Lite – Full Specifications:


  • Panel: 6.6-inch AMOLED, 1.5K Resolution (Symmetrical Narrow Bezels).

  • Refresh Rate: 120Hz Refresh Rate.

  • Brightness: 6500 nits Peak Brightness (2000 nits HBM).

  • Eye Protection: High-Frequency PWM Dimming (Flicker-free).

  • Build: Aluminum Frame with Slim, Handy & Cute Form Factor.

  • Durability: IP66 Water and Dust Resistance + 5-Star Drop Protection Rating.

  • Button: Dedicated AI/Camera Control Button (Multi-role use).

  • Weight: 180 grams (Approx).

  • Chipset: MediaTek Dimensity 7100 Elite.

  • RAM: 8GB (LPDDR4X).

  • ROM: 256GB (UFS 3.1).

  • Gaming: Optimized for 60 FPS Gaming (PUBG & eFootball support).

  • Main Camera: 108 MP Primary Sensor.

  • Ultra-wide: 5 MP Ultra-wide Lens.

  • Front Camera: 16 MP Selfie Camera.

  • Video Recording: Rear: 1080p Max Recording (No 4K support).

  • Capacity: 6520 mAh Large Battery.

  • Wired Charging: 45W Fast Charging (Charger included in the box).

  • Reverse Charging: Reverse Wired Charging Supported (Bypass charging included).

  • OS: MagicOS based on Android 16 (Global ROM).

  • Fingerprint: Optical Under-display Fingerprint Scanner.

  • Connectivity: 5G Support, NFC, Global ROM.

  • Audio: Dual Stereo Speakers (300% Extra Volume Mode).


ডিজাইন এন্ড বিল্ড কোয়ালিটি


ডিজাইন আর বিল্ড কোয়ালিটির কথা যদি বলি, তবে এটি এক কথায় চমৎকার! ফোনটা হাতে নিলেই একটা প্রিমিয়াম ভাইব পাওয়া যায়। প্রথমত, এর ফ্রেমটা তৈরি করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে, যা ফোনটিকে বেশ শক্তপোক্ত একটা স্ট্রাকচার দিয়েছে। আর পেছনের অংশ নিয়ে কিছুটা দ্বন্দ্ব থাকলেও ৯৯% শিউর যে এখানে গ্লাস ব্যাক ব্যবহার করা হয়েছে। যাইহোক ফোনটা হাতে ধরলে যে জিনিসটা আপনাকে মুগ্ধ করবে সেটা হলো এর স্লিমনেস। কারণ এর থিকনেস মাত্র 7.34mm সেইসাথে ফোনটা এতটাই পাতলা এবং এর ওজন মাত্র ১৮০ গ্রাম, যার কারণে এক হাতে এটি ব্যবহার করা খুবই আরামদায়ক এবং অনেক বেশি হ্যান্ডি মনে হয়েছে। আর এই স্লিম বডির মধ্যেও অনর ব্যবহার করেছে তাদের 'ফাইভ স্টার ড্রপ প্রোটেকশন' রেটিং। অর্থাৎ, স্লিম হলেও ফোনটা কিন্তু যথেষ্ট মজবুত; হাত থেকে পড়ে গেলেও খুব একটা চিন্তার কারণ নেই। সামনের দিকে তাকালে খেয়াল করলে দেখবেন এর সিমেট্রিক্যাল ন্যারো বেজেল। নিচের চিন (Chin) এবং পাশের বেজেলগুলো এতই চিকন যে মনে হয় পুরো সামনের অংশটাই একটা ডিসপ্লে। তবে আইপি রেটিংয়ের জায়গায় অনর একটু কৃপণতা করেছে; এখানে দেওয়া হয়েছে IP66 এর রেটিং। এর মানে হলো, হালকা বৃষ্টি বা পানির ঝাপটা লাগলে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু ফোনটা নিয়ে পানিতে পুরোপুরি পানিতে চুবানো যাবে না। এখন আসি এর বাটন আর পোর্টসগুলোতে কি কি থাকছে। ফোনের ডান পাশে থাকছে ভলিউম রকার আর পাওয়ার বাটন। তবে বাম দিকে অনর একটা এক্সট্রা বাটন যোগ করেছে, যেটা অনেকটা আইফোনের নতুন 'ক্যামেরা কন্ট্রোল' বা 'অ্যাকশন বাটন'-এর মতো কাজ করে। এটা দিয়ে আপনি সরাসরি ক্যামেরা ওপেন করা, শাটার বাটন হিসেবে ব্যবহার করা বা বিভিন্ন AI ফিচার কন্ট্রোল করতে পারবেন। সত্যি বলতে, আইফোন ইউজাররাই এই বাটনটা খুব একটা ব্যবহার করছে না, সেখানে অনর কেন এটা মেইনস্ট্রিমে আনলো সেটা একটা প্রশ্ন হতে পারে। তবে শর্টকাট ব্যবহারের জন্য এটি বেশ কাজের। নিচের দিকে তাকালে দেখা যাবে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট, মেইন মাইক্রোফোন এবং প্রাইমারি স্পিকার গ্রিল। সেইসাথে ফোনটাতে কিন্তু ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার সেটআপ দেওয়া হয়েছে, যা সাউন্ডের দিক থেকে বেশ লাউড। আর সিম ট্রে-তে আপনি ডুয়াল ন্যানো সিম ব্যবহার করতে পারবেন। ফোনের সেকেন্ডারি মাইক্রোফোনটি উপরের দিকে পজিশন করা হয়েছে। ওভারঅল ডিজাইনের দিক থেকে অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় অনর মোটামোটি অনেকটা এগিয়ে। 


ডিসপ্লে


ডিসপ্লে সেকশনে যদি আসি, তবে এক কথায় এর ডিসপ্লেটা জাস্ট Awesome। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৬ ইঞ্চির একটি ১.৫কে (1.5K) অ্যামোলেড প্যানেল। যার রেজোলিউশনটা ১২২০পি হওয়ার কারণে ডিসপ্লের শার্পনেস আর ডিটেইলস নিয়ে কোনো অভিযোগের জায়গা নেই, সবকিছু একদম ক্রিস্পি মনে হবে। আর ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট থাকার কারণে স্ক্রলিং বা ইউআই-এর অ্যানিমেশনগুলো একদম স্মুথ মনে হবে। সেইসাথে গ্লোবাল সফটওয়্যারের সাথে অনর এই হাই রিফ্রেশ রেটটা বেশ ভালোভাবেই অপ্টিমাইজ করতে পেরেছে। তবে এই ডিসপ্লের মেইন হাইলাইট হলো এর ব্রাইটনেস। ওরা দাবি করছে এটি ৬৫০০ নিটস পর্যন্ত পিক ব্রাইটনেস টাচ করতে পারে! যদিও রিয়েল লাইফ বা এইচবিএম (HBM) মোডে আপনি প্রায় ২০০০ নিটস পর্যন্ত পাবেন। সেইসাথে ইনডোরে ফুল ব্রাইটনেস দিয়ে ডিসপ্লের দিকে তাকালে রীতিমতো চোখ-মুখ ঝলসে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। তবে এর একটা পজিটিভ দিক আছে যেমন কড়া রোদে বা আউটডোরে আপনি যখন ফোনটা চালাবেন, ডিসপ্লে দেখতে আপনার বিন্দুমাত্র কষ্ট হবে না। চোখের সেফটির কথা মাথায় রেখে এতে ব্যবহার করা হয়েছে 3840Hz হাই-ফ্রিকোয়েন্সি পিডব্লিউএম (PWM) ডিমিং। এর ফলে আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে থাকেন বা রাতে কম ব্রাইটনেসে ফোন চালান, আপনার চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে না। আর ডিসপ্লে কোয়ালিটি নিয়ে বলতে গেলে, এতে কোনো ধরনের এক্সেসিভ হিউ (Hue) বা মিস্টাচের সমস্যা খেয়াল করবেন না।  তবে একটা জায়গায় অনেকের কাছে এটি খটকা লাগতে পারে—সেটা হলো এর পিল-শেপড (Pill-shaped) পাঞ্চ-হোল। এটা দেখতে কিছুটা ব্যাকডেটেড মনে হতে পারে। বর্তমান সময়ে সবাই যেখানে ছোট পাঞ্চ-হোল খুঁজছে, সেখানে অনর কেন এই বড় পিল-শেপ ব্যবহার করলো সেটা একটা প্রশ্ন। যদিও ব্যবহার করার সময় এটি খুব একটা ডিস্ট্রাক্টিং মনে হবে না। আর সবশেষে সিকিউরিটির জন্য ডিসপ্লের নিচে দেওয়া হয়েছে অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। যেটা বেশ ফাস্ট এবং রেসপন্সিভ। তবে এর পজিশনটা একটু বেশিই নিচের দিকে মনে হতে পারে। এখানে সেন্সরটা যদি আর সামান্য একটু উপরে দেওয়া হতো, তবে এক হাতে ফোনটি আনলক করা আরও বেশি আরামদায়ক হতো।

সব মিলিয়ে ডিসপ্লে সেকশনে আপনাকে হতাশ হতে হবে না, এখানে সবকিছুই দিয়ে দিয়েছে HONOR। 



পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার


যাইহোক এবার আসি পারফরম্যান্স সেকশনে আর পারফরম্যান্সের কথা বললে, এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক Dimensity 7100 Elite  চিপসেট। সত্যি বলতে, এই বাজেট রেঞ্জে আমাদের এক্সপেক্টেশন আর একটু বেশি থাকে, কারণ এই ৩৭ হাজার টাকার আশেপাশে যে গ্লোবাল ফোনগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোতে সাধারণত Snapdragon 7 Gen 3 এর মতো শক্তিশালী চিপসেট থাকে। সেই তুলনায় Dimensity 7100 Elite কিছুটা পিছিয়ে আছে। আপনি যদি সিপিইউ (CPU) পারফরম্যান্স তুলনা করেন, তবে স্ন্যাপড্রাগন যেখানে ২০ হলে এটা হবে ১৮। কিন্তু জিপিইউ (GPU) অর্থাৎ গেমিং বা গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রে এই চিপসেটটা বেশ ভালোই পিছিয়ে আছে। যাইহোক র‍্যাম আর রমের কথা বললে, এতে পাচ্ছেন ৮ জিবি এলপিডিডিআর৪এক্স (LPDDR4X) র‍্যাম এবং ২৫৬ জিবি ইউএফএস ৩.১ (UFS 3.1) স্টোরেজ। এখানে সবকিছুই মোটামোটি ঠিক্টহাক আছে তবে আরেকটূ আপগ্রেড র‍্যাম রম দিলে ভালো হতো তবে দামটা সামান্য বেড়ে যেতো। যদিও এটা খারাপ না ডেইলি টাস্ক যেমন ফেসবুকিং, ব্রাউজিং বা ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে ফোনটা একদম ফাস্ট এন্ড ফ্লুইড। সেইসাথে অ্যাপ ওপেনিং বা ক্লোজিং অ্যানিমেশনগুলো বেশ স্ন্যাপি। তবে আপনি যদি একজন হেভি মাল্টিটাস্কার হন, অর্থাৎ একসাথে অনেকগুলো বড় বড় অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চালিয়ে কাজ করতে চান, তবে মাঝেমধ্যে কিছুটা প্রেসার ও ফিল করতে পারেন।


তো এখন আসি গেমিংয়ের কথায়। যারা গেমিং করবেন ভাবছেন, তাদের জন্য এই ফোনটা মোটেও 'গো' না। এখানে ই-ফুটবল (eFootball) এর গেমপ্লে তে ৬০ এফপিএস- পাবেন, তাছাড়া ৩০ মিনিট পর কিছু মাইনর ফ্রেম ড্রপ খেয়াল করতে পারেন যদিও সেটা খুব বেশি না। অন্যদিকে পাবজির (PUBG) ক্ষেত্রে ৬০ এফপিএস সাপোর্ট থাকলেও গেমিংয়ে ছোট খাটো ল্যাগি এক্সপেরিয়েন্স পাবেন। তবে সবথেকে বড় কথা হলো হিট জেনারেশন। মাত্র ৩০ মিনিটের গেমিংয়েই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। যা সাধারণ ইউসেজে তাপমাত্রা ৩৭-৩৮ এর মধ্যে থাকলেও গেমিং বা হেভি ইউসেজে ফোনটা বেশ গরম হয়। তাই গেমিংয়ের জন্য এটি মোটেও রিকমেন্ডেড না।


সফটওয়্যারের কথা বললে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। কারণ এটা গ্লোবাল রম (Global ROM)। এই চাইনিজ রমের জঞ্জালের মধ্যে গ্লোবাল ম্যাজিক ওএস (MagicOS) চালানোটা সত্যিই রিফ্রেশিং। চাইনিজ রমে যে কমন সমস্যাগুলো থাকে যেমন নোটিফিকেশন ডিলে হওয়া, ফালতু অ্যাপ বা ব্লটওয়্যারে ভরা থাকা এই ফোনে সেসবের কোনো বালাই নেই। ইউআই (UI) একদম ক্লিন, স্টেবল এবং কোনো ধরনের 'বাগ-ভাল্লুক' খুঁজে পাবেন না। সেইসাথে এটি অ্যান্ড্রয়েড 16 -এর ওপর ভিত্তি করে ম্যাজিক OS 10-এ চলছে এবং আশা করা যায় এটী অ্যান্ড্রয়েড 18 পর্যন্ত আপডেট পাবে।


এছাড়াও এতে এনএফসি (NFC) সাপোর্ট আছে এবং ইনবিল্ট কিছু এআই (AI) টুলস দেওয়া হয়েছে, যা আপনার ডেইলি ইউসেজকে আরও সহজ করবে। সহজ কথায়, আপনি যদি একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হন যার স্মুথ ইন্টারফেস আর ক্লিন সফটওয়্যার পছন্দ, তবে আপনি হ্যাপি থাকবেন। কিন্তু আপনি যদি পারফরম্যান্স সেন্ট্রিক বা হার্ডকোর গেমিং চান, তবে এই হার্ডওয়্যার আপনাকে হতাশ করতে পারে।



ব্যাটারি ও চার্জিং


তো এবার আসি ফোনটার অন্যতম বড় সারপ্রাইজ অর্থাৎ ব্যাটারি সেকশনে। ফোনটা যে পরিমাণ স্লিম আর হ্যান্ডি, সেটা দেখে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না যে এর ভেতরে কত বড় ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে। HONOR এখানে ব্যবহার করেছে 6520 mAh-এর একটি বিশাল Lithium-ion Polymer (Li-Po) ব্যাটারি।

এখন যদি ব্যাটারি ব্যাকআপের কথা যদি বলি, আপনি যদি একজন নরমাল ইউজার হন অর্থাৎ ফেসবুকিং, ইউটিউব বা টুকটাক কথা বলেন তবে চার্জ নিয়ে আপনাকে একদমই ভাবতে হবে না। একবার ফুল চার্জে এক থেকে দেড় দিন অনায়াসেই চালিয়ে নিতে পারবেন। তবে আপনি যদি টানা গেমিং করেন বা প্রচুর প্রেসার দেন, তবে ব্যাকআপ কিছুটা কম পাবেন। কারণ এর চিপসেটটা খুব একটা পাওয়ার এফিশিয়েন্ট না হওয়ায় হেভি লোডে ব্যাটারি একটু দ্রুত ড্রেন হতে পারে। তবুও দিনশেষে আপনি আরামসে ৭-৮ ঘন্টা পার করে দিতে পারবেন।


চার্জিংয়ের জন্য বক্সেই দেওয়া আছে ৪৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার। এই বড় ব্যাটারি ফুল চার্জ হতে মোটামুটি ১ ঘণ্টা ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মতো সময় নিতে পারে। তবে আধুনিক সব ফিচার কিন্তু এখানে রয়ে গেছে। যেমন এতে বাইপাস চার্জিং (Bypass Charging) সাপোর্ট করে। পাশাপাশি এতে আছে রিভার্স ওয়্যার চার্জিংয়ের সাপোর্টও রয়েছে। এর মানে হলো, আপনি চাইলে ডাটা ক্যাবল দিয়ে এই ফোন থেকে অন্য কোনো ফোন চার্জ দিতে পারবেন অর্থাৎ এটি পাওয়ার ব্যাংক হিসেবেও কাজ করবে। তবে মনে রাখবেন, রিভার্স চার্জিং ব্যবহারের জন্য আপনার কাছে টাইপ-সি টু টাইপ-সি ক্যাবল থাকতে হবে। যদিও এতে কোনো ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সুবিধা নেই, তবে এই বাজেটে 6520mAh ব্যাটারির সাথে যেসব ফিচার তারা দিয়েছে, তাতে অভিযোগ করার কোনো জায়গা নেই। 


ক্যামেরা

ক্যামেরা সেকশন নিয়ে কথা বলা মানেই একটা মিশ্র অনুভূতি। একদিকে ১০৮ মেগাপিক্সেলের হুংকার, অন্যদিকে কিছু জায়গায় বেশ বড় রকমের ছাড়। চলুন বিস্তারিত দেখা যাক। পেছনের মেইন ক্যামেরা হিসেবে আছে ১০৮ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি সেন্সর (f/১.৮ অ্যাপারচার)। এর সাথে একটা ৫ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্স দেওয়া হয়েছে। সত্যি বলতে, এই বাজেটে ৫ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড অনেকটা 'খেলনা' লেন্সের মতো। আর সামনে সেলফির জন্য রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের শ্যুটার। ফোনের পেছনে কোনো ডেডিকেটেড টেলিফটো লেন্স নেই, তবে ১০৮ মেগাপিক্সেল সেন্সরকে ব্যবহার করে জুমের কাজ চালানো যাবে।


  • দিনের আলোতে মেইন ক্যামেরার ছবি যথেষ্ট ভালো লাগবে আপনাদের। ছবিগুলো বেশ ভাইব্রেন্ট এবং আই-সুদিং কালার দেওয়ার চেষ্টা করে। সেইসাথে ডিটেইলস এবং শার্পনেসও চলনসই, জুম করলে খুব একটা ফেটে যায় না। তবে একটা জায়গায় ইমপ্রুভমেন্টের সুযোগ আছে, সেটা হলো ডায়নামিক রেঞ্জ। অনেক সময় হাইলাইট কন্ট্রোল করতে গিয়ে শ্যাডোর ডিটেইলস কিছুটা হারিয়ে ফেলে। তবুও সোশ্যাল মিডিয়া রেডি ছবির জন্য মেইন ক্যামেরাটা আপনাকে হতাশ করবে না।


  • এই ফোনে কোনো টেলিফটো লেন্স না থাকলেও, পোর্ট্রেট মোডে আপনি 1x, 2x, 3x পর্যন্ত অপশন পাবেন। ১০৮ মেগাপিক্সেলের বড় সেন্সর থাকায় 3x জুমের পোর্ট্রেটগুলোও বেশ ডিটেইলড আসে। এজ ডিটেকশন বা ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করার ক্ষমতা মোটামুটি ভালোই লাগবে আপনার কাছে।


  • ৫ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্সটা নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। পর্যাপ্ত আলো থাকলে মোটামুটি কাজ চলে যাওয়ার মতো ছবি পাওয়া যায়, কিন্তু ডিটেইলস অনেক কম থাকে। আমাদের ভাষায় এটি একটি 'খেলনা লেন্স' ছাড়া আর কিছুই না। 


  • অন্যদিকে, ১৬ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে তোলা সেলফিগুলো খুব একটা সুবিধার মনে হবে না। কারণ ছবিগুলো কেমন জানি একটু সফট মনে হতে পারে। এই বাজেটে অনরের কাছে আরও শার্প সেলফি প্রত্যাশা থাকে। তবে আশা করা যায় ফিউচার আপডেট দিয়ে তারা এটা ঠিক করবে।


  • সবথেকে বড় ধাক্কাটা পাবেন ভিডিও সেকশনে এসে। কারণ ১০৮ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও এই ফোনে সর্বোচ্চ 1080p তে ভিডিও করা যায়। এই বাজেটে 4K ভিডিও না থাকাটা সত্যিই হাস্যকর এবং হতাশাজনক। সেইসাথে ভিডিওর স্ট্যাবিলাইজেশন বা কোয়ালিটিও আহামরি কিছু না। যারা ইউটিউব বা টিকটকের জন্য ভিডিও বানান, তাদের জন্য এই ফোনটা মোটেও ভালো অপশন হবে না।


ওভারঅল  ক্যামেরা নিয়ে একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। আপনি যদি কেবল দিনের আলোতে মেইন ক্যামেরা দিয়ে স্থির ছবি বা পোর্ট্রেট তুলতে পছন্দ করেন, তবে এটি আপনার কাজ চালিয়ে দেবে। কিন্তু আপনি যদি ভিডিওগ্রাফি বা ভালো মানের সেলফি আশা করেন, তবে ৩৭ হাজার টাকার আশাপাশে এর থেকে অনেক বেটার অপশন মার্কেটে আছে সেগুলো দেখতে পারেন।



সুবিধা:


  • অসাধারণ স্লিম (7.34mm) ও হ্যান্ডি ডিজাইন এবং প্রিমিয়াম অ্যালুমিনিয়াম বিল্ড।

  • ৬৫২০ mAh-এর দানবীয় ব্যাটারি (এত পাতলা ফোনে যা অভাবনীয়)।

  • ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং ৬৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস।

  • ক্লিন গ্লোবাল সফটওয়্যার (ম্যাজিক ওএস), যাতে ব্লটওয়্যার বা নোটিফিকেশন ডিলে নেই।

  • ফাইভ স্টার ড্রপ প্রোটেকশন রেটিং, যা ফোনটিকে অনেক বেশি মজবুত করেছে।

  • বক্সে ৪৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার এবং রিভার্স ও বাইপাস চার্জিং সুবিধা।

  • আইফোনের মতো ডেডিকেটেড এআই/ক্যামেরা কন্ট্রোল বাটন।


অসুবিধা:


  • দাম অনুযায়ী ডাইমেনসিটি ৭১০০ এলিট চিপসেটটি বেশ দুর্বল।

  • হেভি গেমিংয়ে ল্যাগ এবং দ্রুত গরম হওয়ার (৪০° সেলসিয়াস) সমস্যা।

  • মেইন ক্যামেরায় ৪কে (4K) ভিডিও রেকর্ডিংয়ের কোনো সাপোর্ট নেই।

  • ৫ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্সটি পারফরম্যান্সের দিক থেকে একদমই 'খেলনা'।

  • সেলফি ক্যামেরা আরও শার্প হতে পারতো এবং লো-লাইটে দুর্বল।

  • আইপি ৬৬ রেটিং, তাই ফোনটি পানিতে চুবানো যাবে না।

  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি ডিসপ্লের অনেক বেশি নিচে পজিশন করা হয়েছে।


ফাইনাল কথা


পুরো আলোচনা শেষে যদি বলি, Honor 600 Lite ফোনটা সবার জন্য নয়, বরং একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষের জন্য তৈরি। আপনি যদি দিনরাত গেমিং করেন কিংবা প্রফেশনাল লেভেলের ভিডিওগ্রাফি আপনার প্রধান ডিমান্ড হয়, তবে এই ফোনটি আপনাকে কিছুটা নিরাশ করতে পারে। কিন্তু দিনশেষে আপনার যদি এমন একটি ফোনের প্রয়োজন হয় যা দেখতে প্রিমিয়াম, হাতে ধরলে প্রিমিয়াম ফিল দেয় এবং যার ব্যাটারি ব্যাকআপ আপনাকে দীর্ঘ সময় নিশ্চিন্ত রাখবে তবে এটি একটি গুড চয়েস। তবে ৩৭ হাজার টাকার আশেপাশের এই বাজেটে পারফরম্যান্সের ঘাটতিটা মানিয়ে নেওয়া কিছুটা কঠিন হতে পারে; তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে দামটা যখন ৩০০০০-৩৫০০০ টাকার আশেপাশে নেমে আসবে, তখন এটি সংগ্রহ করা। তাই একটি ব্যালেন্সড গ্লোবাল ফোনের স্বাদ নিতে চাইলে এই ডিভাইসটি আপনার পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকেই থাকবে। 


প্রাইস এবং প্রাপ্যতা


ডলার রেট এবং সাপ্লাই চেনের উপর ভিত্তি করে প্রাইস আপডান করে এছাড়াও কিছুদিন পর ফোন গুলোর প্রাইস কমে আসে তাই Honor 600 Lite Price in Bangladesh দেখতে পারেন। আর হ্যাঁ আপনারা এই ফোনটি এবং অন্যান্য গ্লোবাল বা চাইনিজ স্মার্টফোন কিনতে চাইলে চলে আসতে পারেন SMS GADGET-এর যে কোন ব্রাঞ্চে অথবা বিস্তারিত জানতে মেসেজ করুন SMS GADGET এর ফেইসবুক পেজে।


Sir, How can I help?support
support