Samsung Galaxy S26 Ultra Review — পারফেক্ট ফ্লাগশিপ ফোন?
Samsung-এর Ultra সিরিজ সবসময়ই the everything phone ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে পরিচিত যেখানে ক্যামেরা, ডিসপ্লে, পারফরম্যান্স, সফটওয়্যার ও প্রোডাক্টিভিটির পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় থাকে। Galaxy S26 Ultra সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংযোজন, তবে এবার বড় কোনো হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের চেয়ে পরিমার্জিত অভিজ্ঞতা, উন্নত AI এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত নতুন ফিচার হলো Privacy Display—যার কারণে পাশ থেকে তাকালে স্ক্রিনের কনটেন্ট দেখা যায় না। ফ্ল্যাগশিপ সেগমেন্টে এটিকে প্রথম বাস্তব ও কার্যকর প্রয়োগ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
Samsung Galaxy S26 Ultra Specifications
Chipset: Snapdragon 8 Elite Gen 5 (3nm)
Display: 6.9-inch Dynamic LTPO AMOLED 2X, 120Hz, QHD+
Operating System: Android 16, One UI 8.5
Main Camera: 200MP (f/1.4)
Ultrawide Camera: 50MP
Telephoto:
50MP 5× Periscope Zoom
10MP 3× Telephoto
Battery: 5000mAh
Charging:
60W Wired
25W Wireless (Qi2)
Build: Titanium Frame + Gorilla Armor 2
Stylus: S-Pen Support
Galaxy S25 Ultra আনবক্সিং
Galaxy S26 Ultra–র বক্সের ভিতরে থাকছে একটি USB-C to USB-C কেবল, একটি SIM ejector tool এবং ফোনটি নিজেই। তবে বক্সের মধ্যে কোনো চার্জার দেওয়া হয়নি।
ডিজাইন এন্ড বিল্ড কুয়ালিটি
ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ আগের Ultra মডেলগুলোর মতোই পরিচিত, তবে এবার বডি আরও স্লিম—থিকনেস প্রায় ৭.৯ মিমি এবং ওজন ২১৮ গ্রাম, ফলে হাতে ধরলে আগের তুলনায় বেশি কমফোর্টেবল লাগে। ফ্রেমে ব্যবহার করা হয়েছে শক্তপোক্ত Grade-5 Titanium, যা প্রিমিয়াম ফিলের পাশাপাশি ভালো ডিউরেবিলিটিও নিশ্চিত করে।
সামনের দিকে থাকছে Gorilla Armor 2 প্রোটেকশন, আর ব্যাক প্যানেলে রয়েছে Gorilla Glass Victus 2। পানি ও ধুলাবালি থেকে সুরক্ষার জন্য ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে IP68 water & dust resistance, ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে এটি বেশ নির্ভরযোগ্য একটি ফ্ল্যাগশিপ বিল্ড দেয়।
বক্সি শেপ হওয়ার কারণে ইন-হ্যান্ড ফিলটা যথেষ্ট প্রিমিয়াম লাগে। আকারে একটু বড় ও চওড়া হওয়ায় এক হাতে ব্যবহার করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং, আর ক্যামেরা বাম্প উঁচু হওয়ায় সমতল জায়গায় রাখলে ফোনটি একদিকে সামান্য ওঠা থাকে।

তবে ওজনের ভারসাম্য ভালোভাবে ডিস্ট্রিবিউটেড, তাই দীর্ঘ সময় হাতে ধরলেও অস্বস্তি লাগে না। আগের মতোই ব্লুটুথ ছাড়াই বিল্ট-ইন স্টাইলাস সাপোর্ট থাকছে ফোনটির সঙ্গে।
ডিসপ্লে
৬.৯-ইঞ্চির LTPO AMOLED ডিসপ্লেটিতে থাকছে ১২০Hz রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ ২৬০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস, ফলে আউটডোরেও কনটেন্ট দেখা একদম পরিষ্কার থাকে। এর সঙ্গে DX anti-reflective coating থাকায় সরাসরি আলো পড়লেও রিফ্লেকশন অনেকটাই কম লাগে।

এবার ডিসপ্লেতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে Privacy Display ফিচার, যা পাশ থেকে তাকালে স্ক্রিনের কনটেন্ট দেখা যায় না। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, অফিস বা ট্রাভেলিং—এই ধরনের পরিস্থিতিতে এটি সত্যিই প্র্যাকটিক্যাল ভ্যালু যোগ করবে।
ব্যাটারি লাইফ
ব্যাটারিতে এবারও রয়েছে ৫০০০mAh ক্ষমতার লিথিয়াম-আয়ন সেল। অর্থাৎ ক্যাপাসিটিতে পরিবর্তন না থাকলেও সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন আর নতুন চিপের থাকার কারণে রিয়েল লাইফে ব্যবহারে ব্যাকআপ ভালো পাওয়া যাচ্ছিলো।

চার্জিং সেকশনে এবার আপডেট দেখা গেছে। ফোনটি ৬০W ওয়্যার্ড চার্জিং এবং ২৫W Qi2 ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট করে। পাশাপাশি রয়েছে Super Fast Charging 3.0 সাপোর্ট। তবে বক্সে কোনো চার্জার দেওয়া হয়নি, তাই আলাদা করে চার্জার কিনতে হলে অবশ্যই SFC 3.0 সাপোর্টেড অ্যাডাপ্টার নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ নাহলে সর্বোচ্চ চার্জিং স্পিড পাওয়া যাবে না। তাই SMS Gadget থেকে QCY 67W GaN Charger টা সাজেস্ট করা হচ্ছে।


চার্জিং স্পিড আগের তুলনায় উন্নত হলেও একে এখনো আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং ক্যাটাগরিতে ফেলা যায় না।
সাউন্ড টেস্ট
Ultra সিরিজ সবসময়ই শক্তিশালী মাল্টিমিডিয়া পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত, এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফোনটিতে রয়েছে স্টেরিও স্পিকার সেটআপ এবং হাই-বিটরেট অডিও সাপোর্ট, ফলে অডিও আউটপুট এক্সপেক্টেশন অনুযায়ীই পাওয়া যায়। সাউন্ডে কোনো ধরনের নয়েজ বা ডিস্টরশন চোখে পড়েনি, আর ভলিউম ও ক্ল্যারিটির দিক থেকেও অভিজ্ঞতাটা বেশ ভালো।
সফটওয়্যার এন্ড পার্ফমেন্স
২০২৬ সালের Android ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্যান্সের নতুন মানদণ্ড তৈরি করার লক্ষ্যেই ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বশেষ Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট। এতে রয়েছে Oryon V3 CPU ও Adreno 840 GPU, যা 3nm আর্কিটেকচারে নির্মিত ফলে পাওয়ার এফিশিয়েন্সি ও sustained performance দুটোই পাওয়া যায়।
স্টোরেজ হিসেবে থাকছে UFS 4.1, যার কারণে রেগুলার ফাইল ট্রান্সফার, অ্যাপ লোডিং এবং হেভি মাল্টিটাস্কিং সবকিছুতেই ফোনটি দ্রুত ও স্মুথ ফিল দেয়। সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন ও হার্ডওয়্যারের এই কম্বিনেশন দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে শুরু করে ইনটেনস টাস্ক সব ক্ষেত্রেই একটি ফ্ল্যাগশিপ-লেভেলের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
বেঞ্চমার্ক টেস্টের ফলাফলও বেশ শক্তিশালী ছিল। তবে চিপসেটটি একেবারে নতুন হওয়ায় এখনো অপ্টিমাইজেশন পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি, যার কারণে ব্যবহার করার সময় ফোনটি তুলনামূলকভাবে বেশি হিট জেনারেট করছিল। আশা করা যায়, পরবর্তী সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এই বিষয়টি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।
গেমিং টেস্ট
গেমিংয়ের জন্য ফোনটি যথেষ্ট ভালোভাবে অপ্টিমাইজ করা হয়েছে। এতে রয়েছে ray-traced graphics সাপোর্ট, দীর্ঘ সময় খেললেও স্থিতিশীল পারফরম্যান্স এবং high-refresh-rate ভিত্তিক competitive gaming-এর জন্য প্রয়োজনীয় স্মুথনেস ফলে হেভি গেমিংয়েও অভিজ্ঞতাটা ফ্ল্যাগশিপ লেভেলেরই পাওয়া যায়।
সফটওয়্যার
Samsung Galaxy S26 Ultra ফোনটিতে আউট অব দ্য বক্স Android 16 ভিত্তিক One UI 8.5 দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে থাকছে ৭ বছরের সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি আপডেট, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারীদের জন্য বড় একটি সুবিধা।
ইউজার ইন্টারফেস হিসেবে Samsung-এর One UI আগের মতোই স্মুথ, ক্লিন এবং ভালোভাবে অপ্টিমাইজড ডেইলি ইউজ থেকে শুরু করে মাল্টিটাস্কিং, প্রোডাক্টিভিটি ফিচার সবকিছুতেই একটি পরিণত ফ্ল্যাগশিপ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
ক্যামেরা, ফটো অ্যান্ড ভিডিও কুয়ালিটি
ক্যামেরা সেটআপে Samsung Galaxy S26 Ultra একটি সম্পূর্ণ ফ্ল্যাগশিপ প্যাকেজ দিচ্ছে। মেইন ক্যামেরা হিসেবে থাকছে ২০০MP সেন্সর, সঙ্গে ১০MP ৩× টেলিফটো, ৫০MP ৫× পেরিস্কোপ জুম এবং ৫০MP আল্ট্রাওয়াইড লেন্স—ফলে প্রায় সব ধরনের শুটিং সিনারিও কভার করা যায়। আর সামনে রয়েছে ১২MP ফ্রন্ট-ফেসিং ক্যামেরা, যা সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ফোনটি সর্বোচ্চ 8K রেজোলিউশন পর্যন্ত সাপোর্ট করে। এছাড়া 4K 120fps-এ শুট করা যায় এবং 10-bit HDR ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা থাকায় কালার ও ডাইনামিক রেঞ্জ অনেক বেশি সমৃদ্ধ পাওয়া যায়।
এছাড়াও AI-নির্ভর ইমেজ প্রসেসিং, উন্নত নাইট ফটোগ্রাফি এবং আরও স্মার্ট পোর্ট্রেট অপ্টিমাইজেশনের কারণে বিভিন্ন লাইটিং কন্ডিশনেই ক্যামেরাটি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম।
সুবিধা:
Snapdragon 8 Elite Gen 5-এর শক্তিশালী পারফরম্যান্স
৬০W দ্রুত চার্জিং সাপোর্ট
প্রিমিয়াম টাইটানিয়াম বিল্ড
ইন্ডাস্ট্রি-লিডিং দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার আপডেট
S-Pen–ভিত্তিক প্রোডাক্টিভিটি
নতুন Privacy Display ফিচার
অসুবিধা:
ব্যাটারির ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন নেই
ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে বড় আপগ্রেড নেই
চার্জিং স্পিড এখনো সেরা পর্যায়ে পৌঁছায়নি
ডিজাইনে বড় ধরনের রিফ্রেশ নেই
Samsung Galaxy S26 Ultra Price In bangladesh
Samsung Galaxy S26 Ultra বাংলাদেশের বাজারে 12/256GB, 12/512GB, 12/1TB এবং 16/1TB এই ভ্যারিয়েন্টগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। স্টোরেজ ও অ্যাভেইলেবিলিটির উপর নির্ভর করে দাম ভিন্ন হতে পারে।
অথেনটিক Samsung Galaxy S26 Series-এর যেকোনো ফোন সেরা ডিলে নিতে চাইলে SMS Gadget থেকে আপনারটি সংগ্রহ করতে পারেন।
সবকিছু মিলিয়ে Galaxy S26 Ultra এমন একটি ফ্ল্যাগশিপ, যা বড় কোনো নাটকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়; বরং ছোট ছোট কিন্তু অর্থবহ আপগ্রেডের মাধ্যমে নিজেকে আরও পরিণত ও পালিশড করেছে। নতুন Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপ, দ্রুত ৬০W চার্জিং, দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট এবং AI–নির্ভর স্মার্ট ফিচারগুলো এটিকে সত্যিকার অর্থেই ফিউচার-রেডি করে তোলে। এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া Privacy Display শুধু দেখানোর মতো কোনো মার্কেটিং ফিচার নয়, বরং বাস্তব ব্যবহারে স্পষ্ট পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।




